ফ্রান্সের বিখ্যাত বোর্দো অঞ্চলের ওয়াইন খামারগুলো এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্রমশ চীনা বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি হয়েছে। এ বিনিয়োগকারীরা বোর্দোতে জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপন এবং চীনে ওয়াইন রপ্তানির মাধ্যমে লাভের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তবে বর্তমানে সেই স্বপ্নে ধাক্কা লেগেছে, এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের শ্যাতোগুলো (ওয়াইন তৈরির খামার) একের পর এক বিক্রি করছেন।
চীনে পুঁজির ওপর নিয়ন্ত্রণ, এশিয়াতে ওয়াইনের চাহিদা হ্রাস এবং ফ্রান্সে ওয়াইন ব্যবসা পরিচালনার খরচের বিষয়গুলো বিনিয়োগকারীদের মাটিতে নামিয়ে এনেছে বলে এএফপি জানিয়েছে।
বোর্দোতে চীনা বিনিয়োগকারীদের ক্রয়কৃত প্রথম ওয়াইন খামারগুলোর একটি ছিল শ্যাতো লাতু লাগুয়েন। ২০০৯ সালে এক চীনা কোম্পানি এই শ্যাতো কেনে। এর পরের কয়েক বছরে চীনা ব্যবসায়ীরা বোর্দোতে দুই শতাধিক সম্পত্তি ক্রয় করেন। বর্তমানে এ সম্পত্তিগুলোর ৮০ শতাংশই বিক্রির জন্য প্রস্তুত।
অনেকে বোর্দোতে ফরাসি জীবনের রোমান্টিক স্বপ্নে বিভোর হয়ে বিনিয়োগ করেছিলেন, তবে যথাযথ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ছাড়া এই খামার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। চীনের বাজারে দামি ওয়াইনের চাহিদাও কমে যাওয়ায় তাঁদের বিনিয়োগের আর্থিক সুফল পেতে অনেকেই ব্যর্থ হয়েছেন।
বোর্দোর মানচিত্র থেকে বেশ কিছু শ্যাতোর নতুন মালিক হিসেবে চীনা নামগুলো মুছে গেছে। কিছু শ্যাতো আবার ফরাসি বিনিয়োগকারীদের হাতে ফিরেছে। হংকংয়ের ঋণদাতা হুগো তিয়ান মনে করেন, ইউরোপের প্রজন্ম-দীর্ঘ পরিকল্পনার বিপরীতে চীনারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বল্পমেয়াদি, পাঁচ বছরের জন্য বিনিয়োগ করেন। এই পার্থক্যেই বোর্দোতে চীনা বিনিয়োগকারীদের সমস্যার মূল কারণ নিহিত।
তবে কিছু বিনিয়োগকারী বোর্দোতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছেন। আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা অন্ত্রে দ্যু মারে অবস্থিত সোরস বাগানের পুনর্গঠনে ব্যাপক বিনিয়োগ করছেন। এছাড়া, হংকংয়ের ব্যবসায়ী পিটার কোওক তাঁর ক্রয়কৃত সাতটি শ্যাতো পুনরুজ্জীবিত করতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করছেন।
বোর্দোর চীনা বিনিয়োগকারীদের এ অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন লি লিজুয়ান।

.png)
.png)
.png)