বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক জানান, বিরামপুর থানার একটি হত্যা মামলার তদন্তে রকি ইসলামের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার সকালে তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে। ওসি আরও জানান, এই মামলায় এ পর্যন্ত চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিএনপির কর্মী বিপ্লব আলম রশিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। বিপ্লব আলম দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার ২ নম্বর কাটলা ইউনিয়নের উত্তর দাউদপুর গ্রামের বাসিন্দা। মামলায় দিনাজপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকসহ ১১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও, অজ্ঞাতনামা ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে যে, ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর কাটলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী নাজির হোসেন (আনারস প্রতীক) পরাজিত হন এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইউনুছ আলী (নৌকা প্রতীক) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নির্বাচনে আনারস প্রতীকের পক্ষে কাজ করছিলেন দক্ষিণ কাটলার ধানহাটি এলাকার রশিদুল ইসলাম। পরে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি কাটলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ইউনুছ আলীর পক্ষে একটি সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক এমপি শিবলী সাদিক।
অনুষ্ঠান চলাকালে চেয়ারম্যান ইউনুছ আলী শিবলী সাদিককে জানান যে রশিদুল ইসলাম কাটলা বাজারে অবস্থান করছেন। এরপর শিবলী সাদিক তাঁকে ধরে আনার নির্দেশ দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ৩৩ জন আসামি রশিদুলকে কাটলা বাজার থেকে ধরে এনে বাঁশের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করেন, ফলে ঘটনাস্থলেই রশিদুল মারা যান।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন কাটলা ইউপির চেয়ারম্যান ইউনুছ আলী মণ্ডল, খানপুর ইউপির চেয়ারম্যান নিহার রঞ্জন পাহান, পলিপ্রয়াগপুর ইউপির চেয়ারম্যান রহমত আলী, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মেজবাউল ইসলাম মণ্ডল, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক, সাবেক পৌর মেয়র লিয়াকত আলী সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলজার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশিদ, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম, এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম প্রমুখ।

.png)